বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষি জমির চাষাবাদ বলপ্রয়োগে বন্ধ করে দিয়ে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুজনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
গত ২৯ জুলাই (বুধবার) উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালীয়াতলী গ্রামে এ চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী অহিদুজ্জামান মুসা ২০১০ সালে বালিয়াতলী মৌজার ১ একর ৪৮ শতাংশ জমি সাব-কবলা মূলে ক্রয় করেন। এরপর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র সম্পাদন করে তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বর্গা চাষের মাধ্যমে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তবে গত ২৯ জুলাই অভিযুক্ত তুহিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অনাধিকার প্রবেশ করে ওই জমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর বর্গা চাষিকে মারধর করে। খবর পেয়ে মুসা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে চাষাবাদ করতে না দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মুসা বলেন, “ক্ষমতার পালাবদলে একটি গোষ্ঠী হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে গিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবি করছে। নিজের কেনা জমিতে চাষাবাদ করতে চাঁদা দিতে হবে—এর চেয়ে করুণ আর কী হতে পারে! আমি এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত তুহিন বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, “মুসা আমার স্ত্রীর নিকটাত্মীয়। একই খতিয়ানে আমার ও আমার স্ত্রীরও কেনা জমি রয়েছে। তিনি আমাদের অংশসহ চাষাবাদ করায় চাষ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান হলে তিনি তাঁর অংশে চাষ করবেন। চাঁদা দাবি তো দূরের কথা, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) জাকির হোসেন জানান, ঘটনা সংক্রান্ত বিজ্ঞ আদালত থেকে এখনো কোনো তদন্তের আদেশ থানায় পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশনা পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

