স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ এলাকায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী আবার এলাকায় ফিরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় তারা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আগের মতো প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে,নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাশেম শিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজি, জমি দখল, শালিশ বাণিজ্য ও বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা–মামলার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা কাশেম শিকদার এলাকায় নিয়মিত অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁর সঙ্গে বড় ছেলে ইয়াসিন শিকদার, যিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এবং ছোট ছেলে ইমরান শিকদারও এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। ইমরান যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের সহযোগী হিসেবে আওয়ামী লীগ কর্মী আলাল উদ্দিনের নামও এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আমরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। মামলা, হামলা, চাঁদাবাজি—সবকিছুর শিকার হয়েছি। এখন আবার সেই লোকজন এলাকায় ফিরছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় তারা ফিরে এসেছে বলে শুনছি।’
নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হারুনর রশিদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কামাল হোসেন ও হান্নু নামে দুজন তাঁর কাছ থেকে মাছের ঘের কাটার জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন তারা আবার এলাকায় ফিরে এসেছে। টাকা ফেরত না দিলে সংবাদ সম্মেলন করব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এলাকায় ফিরেছি। এখন কোনো সমস্যা নেই।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল। তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুতই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। ঝিকরগাছায় কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে । ছবি সংগৃহীত।
আরো পড়ুন


