ডোবায় ব্রিফকেসে নারীর খণ্ডিত লাশ !

ডোবায় ব্রিফকেসে নারীর খণ্ডিত লাশ !

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের ডোবায় প্লাস্টিকের বস্তা ও ব্রিফকেস ভর্তি খণ্ডিত-অর্ধগলিত অজ্ঞাত নারীর মরদেহের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাঁচ বছরের প্রেমের টানাপোড়েন, বিয়ের চাপ এবং ক্ষোভের বশে ডলি আক্তার (৩০) নামের ওই পোশাক শ্রমিককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ ও বটি দা দিয়ে কেটে দু’টুকরো করে গুম করা হয়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর এলাকার ব্রিজের নিচের খালের পানি থেকে ওই ঝুলন্ত আলামত উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই প্রযুক্তির সহায়তা ও বিশ্বস্ত সোর্সের ওপর ভর করে তদন্ত শুরু করে পিবিআই গাজীপুর জেলা টিম।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির নিখুঁত বিশ্লেষণে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, নিহত ডলি আক্তার (৩০) জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকায় ঘাতক প্রেমিক মো. মিশন ইসলাম (২২), তার মাতা বানু আক্তার (৪৩) এবং মিশনের বন্ধু মো. মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)-কে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, লাশ প্যাকেট করার স্কচটেপ, নিহত ডলির এনআইডি (NID) কার্ড, বাটন মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ডলি আক্তার ও মিশন ইসলাম একই পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেই সুবাদে বিগত ৫ বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি আক্তার প্রেমিক মিশনের ভবানীপুরের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার এবং ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও অতীত বিরোধ নিয়ে ক্ষোভ থেকে ডলিকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা আঁকে মিশন। ডলিকে খাবারের সাথে ঘুমের ও এলার্জির ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। রাত ২টার দিকে মিশন ওড়না/লুঙ্গি দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে ও বালিশ চেপে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করে লাশ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখে।

পরদিন সকালে বাসা পরিষ্কারের সময় মা বানু আক্তার বিষয়টি দেখে ফেললে তাঁরা যৌথভাবে লাশ গুমের ছক কষে। বাসা থেকে কিনে আনা ব্রিফকেসে পুরো দেহ না ধরায় বটি দা ও ব্লেড ব্যবহার করে ডলির মৃতদেহ কোমর থেকে কেটে দুই টুকরো করা হয়। একটি অংশ ব্রিফকেসে এবং অন্য অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর বন্ধু মিল্টনকে ‘বাসা বদলের’ কথা বলে সিএনজি ও অটোরিকশাযোগে ভবানীপুর ব্রিজে নিয়ে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ব্রিজে ফেলার সময় বন্ধু মিল্টনের হাতে রক্ত লেগে গেলে বিষয়াটি ফাঁস করে মিশন। পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব রকিবুল আক্তার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় (মামলা নং-০৭, তারিখ-১২/০৯/২০২৬) পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *