জনস্বার্থে এক দফার আন্দোলনে যেতে পারে ১১ দল  : প্রেসক্লাব যশোরে জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি

জনস্বার্থে এক দফার আন্দোলনে যেতে পারে ১১ দল : প্রেসক্লাব যশোরে জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সরকারের কাছে পেশ করা ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না দেখা গেলে, জনস্বার্থের প্রয়োজনে তা শেষ পর্যন্ত ‘এক দফা’ আন্দোলনে পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসেন।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক জনবহুল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া’ লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার উদ্দেশ্যে যশোর জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে মোবারক হোসেন তুলে ধরেন যে, ১১ দলীয় ঐক্যের পেশ করা ৭ দফা কিন্তু নতুন কিছু নয়; সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের নানা ভোগান্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদার আলোকেই এগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। তারা শুরু থেকেই সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে চান এবং সরকারের গঠনমূলক কাজে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে চান। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, বিগত আট মাসে সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ প্রশাসনিক বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি আসার কথা ছিল, তা মোটেও সন্তোষজনক নয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টানাপোড়েন এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ নাগরিকরা প্রচণ্ড কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রাজপথের দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এসব জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে তাঁরা সবসময় সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন। সরকার যদি এখনই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এই সাত দফা দাবির প্রতি যথোপযুক্ত গুরুত্ব না দেয়, তবে আগামী দিনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তা এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপ নিতে বাধ্য হবে।

লংমার্চের রুট এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই বিশাল রোডমার্চ শুরু হবে। এরপর যাত্রাপথে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়, খুলনার প্রাণকেন্দ্র বাবরি চত্বর, ফুলতলা এবং যশোরের মুড়লিপুর পয়েন্টে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের বিশাল প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাগুলোতেও বিশাল জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি এগিয়ে যাবে।

তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, এই লংমার্চের প্রকৃত প্রাণ হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। কুষ্টিয়া-যশোর মহাসড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ এই বহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং যশোরে এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক জনস্রোত সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সংগ্রহে আগত সাংবাদিকদের সুবিধার্থে মোবারক হোসেন নিশ্চিত করেন যে, মিডিয়া কর্মীদের যানবাহন যেন কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়া বহরে ও বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য বিশেষ স্টিকারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে বহরের ভেতরের সুৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি। সভায় এনসিপির যশোর জেলা আহ্বায়ক নুরুজ্জামানসহ ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সারির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *