চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের চৌগাছায় এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে শান্তা ইয়াসমিন (১৯) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিজ শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার দিনগত রাতে। নিহত শান্তা ইয়াসমিন উপজেলার কায়েমকোলা কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার তথা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শান্তা ইয়াসমিন চৌগাছা উপজেলার কালিয়াকুন্ডি গ্রামের কাজী শাহাজান আলীর মেয়ে। সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে তিনি জানতে পারেন যে তিনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। পরীক্ষার এই ফলাফলে তিনি মারাত্মকভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে নিজ শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
পরদিনে, অর্থাৎ রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন তাঁর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দশপাখিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।
বিজ্ঞাপন
নিহত শিক্ষার্থীর চাচা রাজু মুস্তাজ জানান, শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শান্তা জানতে পারে যে সে দুটি বিষয়ে ফেল করেছে। এরপর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং বারবার কান্নাকাটি করতে থাকে। পরিবারের লোকজন ও তার সহপাঠীরা রাত ১১টা পর্যন্ত তাকে নানাভাবে সান্ত্বনা দেন এবং ধৈর্য ধারণ করতে বোঝান। তবে গভীর রাত হওয়ায় সহপাঠীরা চলে যান এবং পরিবারের সদস্যরা ঘুমাতে যান। পরবর্তীতে রবিবারের সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে সৃষ্ট তীব্র মানসিক আঘাত সইতে না পেরেই শান্তা এই মর্মান্তিক পথ বেছে নেয়।
ঘটনার বিষয়ে কায়েমকোলা কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, শান্তা পড়াশোনায় বেশ ভালো মানের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সে মাত্র দুটি বিষয়ে ফেল করেছিল, কিন্তু এর জন্য অভিমানে এভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে—বিষয়টি শিক্ষক ও সহপাঠীদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
