স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নরসিংদীর মাধবদীতে নিজ বাড়িতে নামাজরত অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে মাধবদী থানায় এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই সাফল্য ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্পনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), একই এলাকার ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) এবং আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির বারান্দায় মাগরিবের নামাজ আদায় করছিলেন জাহানারা বেগম। এ সময় ঘাতকরা ঘরে ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত ও পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে প্রধান আসামি হৃদয় মিয়াকে ৯ আগস্ট, কাদির মিয়াকে ৩০ আগস্ট এবং আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, প্রায় ৭-৮ মাস আগে একটি মাদ্রাসায় বসে বৃদ্ধার গলার সোনার চেইন চুরির ছক কষা হয়। ঘটনার দিন লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে তারা চুরি করতে ঘরে ঢোকে। নামাজরত বৃদ্ধার গলা থেকে চেইন খোলার সময় আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎ চলে এলে তিনি আসামিদের চিনে ফেলেন ও বাধা দেন। ধরা পড়ার ভয়ে তারা সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাহানারা বেগমের মাথা ও পিঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চেইনটি নিয়ে চম্পট দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান জানান, আসামিদের মধ্যে হৃদয় ও কাদিরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে। লুণ্ঠিত সোনার চেইনটি উদ্ধার এবং এই নেপথ্য চক্রান্তে যুক্ত অন্যদের পাকড়াও করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।
