স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও বিচারিক সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. রফিকুল হাসান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “গ্রাম আদালত পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ও গতিশীল হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধগুলো স্থানীয় পর্যায়েই সুসম্পন্ন করা সম্ভব। এতে করে যেমন মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, তেমনি উচ্চ ও অধস্তন আদালতগুলোতে অযাচিত মামলার জট বা চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।” তবে এ প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের নিরপেক্ষতা ও আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সভায় বাংলাদেশ গ্রাম আদালত প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি গ্রাম আদালত আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক, এর প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন অংশীজনদের ভূমিকা এবং জেলায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
মুক্ত আলোচনায় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান এবং পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) রোকসানা খাতুন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে গ্রাম আদালতের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত যশোর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে মোট ৭ হাজার ৬৯০টি মামলা দায়ের হয়েছে। পূর্বের অপেক্ষমাণ ১২৪টিসহ মোট ৭ হাজার ৮১৪টি মামলার (দেওয়ানি ৪,২৪১টি ও ফৌজদারি ৩,৪৪৯টি) বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে রেকর্ড ৭ হাজার ৭৪৩টি মামলা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৭ হাজার ২১০টি মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে মোট ১৪ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মামলা নিষ্পত্তিতে গড়ে মাত্র ১০ দিন সময় লেগেছে বলে সভায় নিশ্চিত করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

