কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের চলমান সংস্কারকাজে নির্ধারিত কার্যাদেশ (সিডিউল) উপেক্ষা করে চরম নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি অর্থ বরাদ্দে নির্মিত এ সড়কের সংস্কারকাজে সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের উপকরণ ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে প্রকাশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট এবং ইটভাটার বর্জ্য হিসেবে পরিচিত ‘ভাটা কুড়ানো ডাস্ট’। ফলে বিপুল বাজেটে নির্মিত এই সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণের নিম্নমান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হলেও স্থানীয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যকর কোনো তদারকি চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন— নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিনিয়ত কারিগরি পরীক্ষা ও প্রকৌশলীদের সরেজমিন পরিদর্শন নিশ্চিত করার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান?
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, এলজিইডির কারিগরি নির্দেশিকায় সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের প্রতিটি স্তরে উপকরণের মান পরীক্ষা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের লিখিত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কে এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
এ পরিস্থিতিতে অনতিবিলম্বে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু ও অন্যান্য উপকরণের নমুনা সংগ্রহ করে সরকারি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সাথে কাজের সিডিউল, প্রাক্কলন ও বিল-ভাউচার নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের জোর দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই নয়, দায়িত্বে গাফিলতি করা তদারককারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। সন্দেহজনক উপকরণ ব্যবহার বন্ধে অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ সরেজমিন তদন্তের জোর আকুতি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। ছবি সংগৃহীত।

