বাগেরহাট প্রতিনিধি :
তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৬
বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা গ্রামে এক বাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ দস্যুতা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মূলহোতাসহ মোট চারজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দখল থেকে লুণ্ঠিত নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং গলানো স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে বাগেরহাট সদর মডেল থানাধীন চাঁপাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শেখ আতিয়ার রহমানের বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই রাতে মুখোশধারী ৩ জন সশস্ত্র ডাকাত ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আতিয়ার রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে দস্যুরা স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ৭ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ১টি বাটন মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পুত্র শেখ ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় একটি দস্যুতা মামলা (মামলা নং-১৮) দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়া তদন্ত ও নিবিড় অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ডিবি বাগেরহাটের একটি বিশেষ দল গত ৪ ও ৫ নভেম্বর নড়াইল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের জালে তোলে।
অভিযান পরিচালনাকালে গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় নড়াইল জেলার লোহাগড়া এলাকা থেকে প্রথম আসামি মোঃ হাসিব শেখকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ১,৫০০ টাকা উদ্ধার হয়। হাসিবের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে ওই দিন রাতেই ঢাকার মিরপুর থেকে দ্বিতীয় আসামি মোঃ ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনাকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর লুট হওয়া বাটন মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ নভেম্বর গভীর রাতে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূলহোতা আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়কে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। হৃদয়ের ভাড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে লুটের নগদ ৩০,১০০ টাকা উদ্ধার করে গোয়েন্দা দল। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তুষার একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির সর্বমোট ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সর্বশেষ মূলহোতা হৃদয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ক্রয়ের অপরাধে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে ২ ভরি ৫ আনা ওজনের গলিত স্বর্ণ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি পুলিশ।
ছবি সংগৃহীত।

