‘আব্বা’ ডেকেও নিস্তার মেলেনি ছাত্রদল নেতার

‘আব্বা’ ডেকেও নিস্তার মেলেনি ছাত্রদল নেতার

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:

গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক।

মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন এই ছাত্রদল নেতা। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসানসহ আরো অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ আনেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ফারুক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের হাতে তারহীন বার্তা আদান-প্রদান যন্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করে। রাত ১টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক। তাকে তুলে নেওয়ার পুরো ঘটনা নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

তিনি আরো দাবি করেন, আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ—এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।

পরে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় বলে জানান ফারুক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলেও জানান।

ফারুক বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ হতে পারে না। গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে কাউকে তুলে নেওয়া এবং নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ। তারা এমন বর্বরতার অবসান চান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত মাসুদ রানা, রাশেদ ও আমিরুল ইসলাম ফাহিমসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সিসিটিভি চিত্র পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা। ফাহিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে নজরদারি ক্যামেরার চিত্রে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হাওলাদার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। ছবি প্রতিবেদক।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *