স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
একটি মাত্র উন্নত প্রযুক্তির স্মার্টফোনে নিজের নামে খোলেন ৩৮টি আলাদা অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাকাউন্ট। আর সেগুলোর মাধ্যমেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জুয়ার এক বিশালাকার সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন মো. খোরশেদ আলী (৩০) নামের এক যুবক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে সাইবার অপরাধের এই মাস্টারমাইন্ডকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ধৃত খোরশেদ আলী উক্ত গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে প্রকাশ, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি টিম বৃহস্পতিবার রাতে খোরশেদের নিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। আটকের পর তাঁর ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি জব্দ করে প্রাথমিক ডিজিটাল নজরদারি ও ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, একক একটি হ্যান্ডসেটেই প্রায় ৩৮টি ভিন্ন ভিন্ন ভার্চুয়াল ক্যাসিনো অ্যাপ সচল অবস্থায় ছিল, যেগুলোর আইডি ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া পরিচালনা করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, খোরশেদ কেবল নিজে এই অনৈতিক জুয়ায় যুক্ত ছিলেন না, বরং এলাকার উঠতি বয়সী তরুণ ও সাধারণ মানুষকে নানাবিধ প্রলোভনে ফেলে এই নিষিদ্ধ ক্যাসিনো অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে দিতেন এবং জুয়ায় উৎসাহিত করতেন। তাঁর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে স্থানীয় বহু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে পথে বসেছে এবং অনেকেই চড়া সুদের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন।
অনলাইন জুয়ার মূল হোতা গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল জানান, মাদকের মতোই অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল ক্যাসিনো বর্তমান সমাজের জন্য এক মারাত্মক অভিশাপ। সব ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে এবং এ জাতীয় অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
উক্ত জালিয়াতির ঘটনায় আটক খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা রজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।ছবি সংগৃহীত।
