সুন্দরবনে আবার শান্তির বার্তা নিয়ে এলো র‍্যাব

সুন্দরবনে আবার শান্তির বার্তা নিয়ে এলো র‍্যাব

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত, নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ধারাবাহিক নজরদারি ও সফল অভিযানে এক বিশাল মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বনের প্রতিকূল পরিবেশ, অনিশ্চিত জীবন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর অবস্থানের মুখে অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের সক্রিয় ৪টি বাহিনীর মোট ৫২ জন জলদস্যু।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সুন্দরবনে সক্রিয় এই চার দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫২ জন সদস্য র‍্যাব-৬ এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খুলনা র‍্যাব-৬ এর সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বাহিনীভিত্তিক বিশ্লেষণে জানা যায়, ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র ১৬ জন, ‘আনারুল বাহিনী’র ১৩ জন, ‘আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনী’র ১৫ জন এবং ‘আফতাব বাহিনী’র ৮ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৫২ জন দস্যু অপরাধের পথ ত্যাগ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৬ জানায়, সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এরা আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। ইতিপূর্বে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় অনেকে আত্মসমর্পণ করলেও অতি সম্প্রতি কিছু নতুন চক্র এবং পুরনো কিছু অপরাধী আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এ প্রেক্ষিতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা জোরদার করলে দস্যু দলগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ তিন মাস বনে সকল প্রকার পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

বন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন একযোগে ৫২ জন সক্রিয় দস্যুর এই আত্মসমর্পণকে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে বনের কাঠ ও প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি, বন্যপ্রাণী শিকার প্রতিরোধ এবং পর্যটক ও বনজীবীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত হবে।

র‍্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনানুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে র‍্যাবের এই কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *