মো: মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর বসতবাড়িতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাত দল গৃহকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) ভোর রাতের দিকে উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বসন্তপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী বাধন মোল্লার বসতবাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ঘরের জানালাই দিয়ে প্রবাসীর পিতা মাসুম মোল্লাকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ঘরের মূল দরজা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। প্রাণের ভয়ে দরজা খুলে দিলে ডাকাত সদস্যরা ভেতরে ঢুকে মাসুম মোল্লাকে ঘরের একটি খুঁটির সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুটপাট করে চম্পট দেয়।
বিজ্ঞাপন
পরদিন সকালে আশপাশের প্রতিবেশীরা মাসুম মোল্লাকে ঘরের খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত শৈলকুপা থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার অনুসন্ধানে নামেন।
এদিকে ডাকাতির এই ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বড় ধরনের সন্দেহের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির এই অভিযোগটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কিছুটা সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে গৃহকর্তা মাসুম মোল্লার কাছে স্থানীয় অনেকের বিপুল পরিমাণ পাওনা টাকা রয়েছে। ফলে পাওনাদারদের দেনা এড়ানো বা বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই নাটক সাজিয়ে একে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কিনা—সে বিষয়ে জোর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব ও নিবিড়তার সাথে তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার আসল সত্যতা উদঘাটিত হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ওসি। ছবি সংগৃহীত।

