স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের স্বনামধন্য ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী, খোকন ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী, যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পরিষদের সহসাধারণ সম্পাদক এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহজাহান আলী খোকনের জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বাদ জোহর যশোর টাউন হল ময়দানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ কারবালা কবরস্থানে নিয়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ শত শত শোকাহত মানুষ অংশ নেন।
জানাজা নামাজে ইমামতি ও পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হযরত মাওলানা আব্দুল মান্নান। জানাজার পূর্বে সমবেতদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিকথা ও বক্তব্য রাখেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ মো. মিজানুর রহমান খান এবং মরহুমের সহোদর সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টোকন।
বিজ্ঞাপন
জানাজায় অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিসিবির পরিচালক ও দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীরুল ইসলাম সোহান, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. রবিউল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি চৌধুরী রফিকুল ইসলাম মল্লুক চান, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনজুরুল হক খোকন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এহতেশামুল হক পাপ্পু, যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক এহতেশামুল হক পরাগ, যশোর ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি কবি কাজীজ্জামান সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, বাসদ নেতা হাসিনুর রহমান, অধ্যাপক মো. কুদ্দুস, অধ্যাপক মকবুল হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তসলিম উর রহমান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনিসুজ্জামান পিন্টুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
এর আগে মরহুমের মরদেহ যশোর ইনস্টিটিউটের সামনে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ সেখানে ভিড় করেন। এ সময় যশোর ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ খেতে গিয়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন সৈয়দ শাহজাহান আলী খোকন। ওই সময় তাঁর সাথে থাকা যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক দ্রুত তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহুল দেব ঘোষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিসিবির পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত। তাঁরা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এদিকে, মরহুম সৈয়দ শাহজাহান আলী খোকনের আত্মার মাগফিরাত এবং শান্তি কামনায় আগামী রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বাদ আসর যশোর শহরের এম এম আলী রোডের বাইতুস সালাম জামে মসজিদে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষকে উক্ত দোয়া মাহফিলে শরিক হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

