স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
“পৃথিবীকে গড়তে হলে সবার আগে নিজেকে গড়ো”—এই দীপ্ত স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুঁড়ি আসর’-এর ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে যশোরে এক বিশাল শিশুকিশোর সমাবেশ, কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই জমকালো অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি এবং গান পরিবেশনসহ মোট পাঁচটি ভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে চূড়ান্ত বিজয়ী হওয়া ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
ফুলকুঁড়ি আসর যশোর শাখার সহসভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসরের সহকারী প্রধান পরিচালক আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে বক্তব্য প্রদান করেন নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন এবং যশোর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. মো. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কোমলমতি শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, তাদের প্রকৃত মানুষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই অভিভাবকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আজকের শিশু-কিশোরদের যেকোনো মূল্যে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং সব ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে হবে। তাদের মাঝে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে উপযুক্ত করে প্রস্তুত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে এবং তাদের মনে দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
উক্ত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসর যশোরের পরিচালক মহিবুল্লাহ হোসেন, সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সংগঠকবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আনন্দঘন পরিবেশ ও মনোজ্ঞ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। ছবি সংগৃহীত।

