যশোরে মাকে বটি দিয়ে গলা কেটে নৃসংশভাবে হত্যা করা সেই শিক্ষকপুত্রের মৃত্যু

যশোরে মাকে বটি দিয়ে গলা কেটে নৃসংশভাবে হত্যা করা সেই শিক্ষকপুত্রের মৃত্যু

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬

জন্মদাত্রী মাকে অত্যন্ত নৃশংস ও পৈশাচিক কায়দায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর মামলার মূল অভিযুক্ত ও বরখাস্তকৃত শিক্ষক মামুনুর রশিদ (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারা হেফাজতে মারা গেছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন গত রোববার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর তথ্যটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ। তিনি জানান, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর হঠাৎ তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন মামুনুর রশিদ। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কারা তত্ত্বাবধানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মৃত মামুনুর রশিদ যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের প্রয়াত আলতাফ হোসেন মাস্টারের পুত্র। তিনি পেশায় ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর নির্মমতার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামুন ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিয়ে করলেও দুটি সংসারই টেকেনি। একের পর এক দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং মায়ের ওপর ক্ষোভ জমিয়ে রাখেন। এসব কারণে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ ও সমস্যায় ভুগছিলেন, যার জেরে ইতিপূর্বে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালেও দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে হয়েছিল।

গত ২৭ আগস্ট বিকেলে নিজ বাড়িতে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে তিনি ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে মা আনোয়ারা বেগমকে আক্রমণ করেন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। সেই আলোচিত হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালেই কারা হেফাজতে ঘটে গেল এই মৃত্যুর ঘটনা। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *