স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখভাগে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অবকাঠামোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও কালচে বর্ণ ধারণ করেছে। আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) ভোর পৌনে ৫টার দিকে একদল দুষ্কৃতকারী এই পৈশাচিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। চরম নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরপরই জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যেই দায়িত্ব অবহেলার সুনির্দিষ্ট দায়ে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া দুই সদস্য হলেন— সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম এবং নায়েক মুসা বিশ্বাস।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোররাতে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৩ জন দুষ্কৃতকারী স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে পলিথিন ও দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে প্যারিস রোড ধরে পালিয়ে যায়। অগ্নিসংযোগের পুরো দৃশ্যটি সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয় এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপারের দপ্তর এবং আনুমানিক মাত্র ৫০ গজের মধ্যে পুলিশ বক্স বহাল থাকা সত্ত্বেও এমন স্পর্শকাতর স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন গণঅভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক রাশেদ খান। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট একক দলের কৃতিত্ব নয়, এটি ছাত্র-জনতার জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল অংশ। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীও শহীদ মিনারে আগুন দিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলতে পারেনি। যারা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে অভ্যুত্থানের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা করছে, তারা চরম ভুল করছে— অচিরেই তারা নিজেরাও ইতিহাসের গহ্বরে হারিয়ে যাবে।”
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অপর সমন্বয়ক ফাহিম আল ফাত্তাহ বলেন, “প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুর অতি সন্নিকটে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলার চরম ব্যর্থতা ও সুশাসনের অভাবকে দৃশ্যমান করে। পতিত স্বৈরাচারী গোষ্ঠী যে এখনো তাদের জুলাই-বিরোধী চক্রান্তে অটুট রয়েছে এবং মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে— এই ঘটনা তারই স্পষ্ট বার্তা দেয়। ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে তারা আরও ধৃষ্টতা দেখাবে।”
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যশোর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিলন শেখ বলেন, “এই আগুন কেবল ইট-পাথরের স্তম্ভে লাগেনি, লেগেছে আমাদের বুকে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হয়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের বীর আন্দোলনকারীরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”
পুরো বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার পেছনের অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ জোরালোভাবে শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিউটিতে গাফিলতির কারণে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা ও ঐতিহাসিক স্মারকের সুরক্ষা দিতে জড়িতদের খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করে আইনের সোপর্দ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
