স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি নতুন করে হাম রোগীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে কেশবপুর উপজেলায় নতুন করে ৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়, যশোরের ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ডেঙ্গু ও হাম রোগীর দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ডেঙ্গু প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে অদ্যবধি যশোর জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬২ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে শূন্য। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ১১০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসায় ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া রেফার্ড হয়েছেন ৮৫ জন রোগী।
বিজ্ঞাপন
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, অভয়নগরে ৫ জন, মণিরামপুরে ৫ জন, কেশবপুরে ২ জন, বাঘারপাড়ায় ১ জন, মনিরামপুরে ১ জন এবং শার্শা উপজেলায় ৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে শার্শায় ২৬ জন, অভয়নগরে ১৬ জন, ঝিকরগাছায় ১২ জন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন এবং অন্যান্য উপজেলায়ও রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, হাম রোগীর দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ হতে অদ্যবধি জেলায় সর্বমোট ১৮০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু কেশবপুর উপজেলায় ৮ জন নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের থেকে ৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ১৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ রোধে মাঠপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
