স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬
পিরোজপুরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মানিক পশারীর দাফনকার্য সম্পন্ন করতে এবং তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে বাধাদানের মতো এক ন্যক্কারজনক ও কলঙ্কজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কুচক্রী মহলকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে যশোরে এক জোরালো গণসমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে যশোর শহরের ব্যস্ততম দড়াটানা ভৈরব চত্বর মোড়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড, যশোরের আয়োজনে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের সন্তান এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, মৃত্যুর পর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন করতে বাধা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করা কেবল অমানবিকই নয়, বরং সমগ্র জাতির আত্মায় আঘাত হানার শামিল। এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে দোষীদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তৌহিদ আহমেদ, একরামুল্লাহ, সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিয়ার রহমান।
গোলাম রসুল ও অলিয়ার রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আবুল কাশেম, সিরাজুল ইসলাম, শহীদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন। এছাড়া পুরো কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। সমাবেশে চিকিৎসা সহায়তার দায়িত্বে ছিলেন জেলা কমান্ডের সদস্য আবুল কাশেম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন জেলা কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ছবি সংগৃহীত।
