স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদরাসায় ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই অবুঝ হিফজ শিক্ষার্থীকে রাতের আঁধারে বলাৎকারের চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক ফয়জুল হককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আটক করে নগরের শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক ফয়জুল হকের বাড়ি সিলেট জেলার জৈন্তাপুর এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পীরের বাজারের উক্ত মাদরাসায় হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ভুক্তভোগী দুই শিশু হঠাৎ মাদরাসা ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে আসে এবং পুনরায় মাদরাসায় যেতে চরম অস্বীকৃতি জানায়। স্বজনেরা প্রথমে শাসন ও মারধর করে তাদের মাদরাসায় পাঠানোর চেষ্টা করলেও শিশুরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা প্রকাশ করে যে, রাতের বেলা তাদের জোর করে শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে নির্দেশ না শুনলে বেধড়ক মারধর এবং তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হতো।
শিশুদের মুখ থেকে এমন ভয়াবহ ও পৈশাচিক নির্যাতনের কথা শুনে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা কালবিলম্ব না করে সিলেটের শাহপরান (রহ.) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আইনগত পদক্ষেপের গন্ধ পেয়ে শিক্ষক ফয়জুল দ্রুত মাদরাসা ছেড়ে নিজ এলাকা জৈন্তাপুরে গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে শাহপরান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জৈন্তাপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত ফয়জুল হক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুদের ওপর এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদকালে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞেস করে, কেন তিনি এমন অপরাধে জড়ালেন এবং বিয়ে কেন করছেন না—এর জবাবে অভিযুক্ত ফয়জুল নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেন, ‘মেয়েদের আমার ভালো লাগে না’।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্যাতনের শিকার শিশু দুটিকে শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

