স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিউদ্দিন নাহিদকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও মাদক সংশ্লিষ্টতার মারাত্মক অভিযোগে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদচ্যুত ও বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমামুল ইসলাম তুহিন জানান, সম্প্রতি ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাহিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক সেবন ও কেনাবেচার সম্পৃক্ততাসহ একাধিক দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কারণে তাকে দলের প্রাতিষ্ঠানিক পদবীসহ সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান ও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে আরও উল্লেখ করেন, নাহিদের ব্যক্তিগত কোনো অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল কোনোভাবেই বহন করবে না। একই সাথে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীকে নাহিদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য সতর্ক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিবাসীদের সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরে নাহিদ তাঁর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নানা ধরনের মাদকব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এতদিন তাঁর ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদচ্যুত এই নেতার প্রকাশ্য মাদক সেবনের একটি বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হলে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নাহিদ ও তাঁর সশস্ত্র সহযোগীরা। এরপর তারা গোপালপুর গেট সংলগ্ন একটি আবাসিক বাড়িতে অতর্কিত তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর, নারীদের লাঞ্ছিত ও মালামাল লুটপাট করে। এই ঘটনার পর আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন সদস্য রাতের আঁধারে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
আক্রান্ত ওই বাড়ির এক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত নাহিদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা জোরপূর্বক নিয়মিত তাদের বসতবাড়িতে এসে মাদকের আড্ডা জমাতো। এতে বাধা প্রদান ও নিষেধ করায় তাদের প্রাণনাশের নানা হুমকি দেওয়া হতো। বর্তমানে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বিষয়ে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিলন মোল্লা জানান, স্থানীয় এক নেতার প্রকাশ্যে মাদক সেবনের বিষয়টি ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা ও পরবর্তী সহিংস হামলার বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। ছবি ফেজবুক থেকে সংগৃহীত।

