মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুরে বসতঘরের জমি ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোছা. হাওয়া বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর মো. রবিউল শেখের (২৭) বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বড়রিয়া-গোপালপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আহত হাওয়া বেগম উক্ত গ্রামের মো. ইমরান শেখের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বসতঘরের মালিকানা ও জমি নিয়ে ইমরান শেখের সাথে তাঁর বাবা মো. চুন্টু শেখ ও ছোট ভাই রবিউল শেখের বিরোধ চলে আসছিল। ইমরান শেখের দাবি, তিনি ও তাঁর বাবা যৌথভাবে উক্ত বসতঘর নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে বাবার কথামতো ঘর নির্মাণের যাবতীয় বাকি টাকাও তিনি এককভাবে পরিশোধ করেন। তবে পুরো টাকা পরিশোধ করার পরও তাঁকে ওই ঘরে শান্তিতে বসবাস করতে দেওয়া হচ্ছিল না।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার ইমরান শেখ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষরা তাঁর বসতঘরের দরজার ৩টি তালা ভেঙে ভেতরে থাকা যাবতীয় মালামাল বাইরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ইমরানের স্ত্রী হাওয়া বেগম বাড়িতে ফিরে তালা ভাঙা ও মালামাল ছিটকে ফেলার প্রতিবাদ জানালে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
আহত হাওয়া বেগমের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করার একপর্যায়ে শ্বশুর চুন্টু শেখের উসকানিতে দেবর রবিউল শেখ গৃহবধূর ওপর লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে হাওয়া বেগমের নাকের মাঝের অংশ ফেটে মারাত্মক জখম হয় এবং প্রচুর রক্তপাত ঘটে। এ সময় স্ত্রী হাওয়া বেগমকে রক্ষা করতে স্বামী ইমরান শেখ এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় হাওয়া বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ইমরান শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগে ২০২৪ সালেও আমার স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বিচার চেয়েও আমরা কোনো স্থায়ী সুরাহা পাইনি। আমরা নিজেদের রক্তঘামে অর্জিত জমিতে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত দেবর রবিউল শেখ মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা স্বীকার করে জানান, সংঘর্ষের সময় তিনিও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। বসতঘরের দখল ও সীমানা সংক্রান্ত এই দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বড়রিয়া-গোপালপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি সংগৃহীত।

