স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় ব্যাপক আলোকসজ্জা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চরম চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পূজা উপলক্ষে দেশজুড়ে আলোকসজ্জার ব্যাপকতা বাড়ালে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে, যা নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেলে উৎসবের আমেজ যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি সার্বিক নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, জেনারেটর চালনার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও দেশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে আমদানি করতে হয়। আমাদের প্রবাসীদের কষ্টার্জিত ও তৈরি পোশাক শিল্পের আয় থেকে এই জ্বালানি কেনা হয়। ফলে ব্যক্তিগত সামর্থ্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সম্পদ সাশ্রয়ী ব্যবহারের মানসিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পুরো আলোকসজ্জা এলাকাভিত্তিক বিস্তৃত না করে কেবল মণ্ডপ বা প্রতিমাকেন্দ্রিক করার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
একই সভায় প্রতিমন্ত্রী দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ নজরদারির নির্দেশ দেন এবং পূজা উপলক্ষে আগামী ১ অক্টোবর থেকে জেলাজুড়ে মোটরসাইকেলসহ সকল ধরনের যানবাহনে কঠোর তল্লাশি অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রস্তুতি সভায় জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ।
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছর যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা বিগত বছরের (৭০৯টি) তুলনায় ২৮টি বেশি। ছবি সংগৃহীত।
