মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলায় প্রসূতি শিল্পী খাতুনের (৩৫) মর্মান্তিক মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর খবরের পরপরই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। নিউ গরীব শাহ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায়পূর্বক প্রতিষ্ঠানটি চিরতরে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত এই দণ্ড প্রদান ও সিলগালার নির্দেশ জারি করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযান পরিচালনাকালে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে এই দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সন্তান প্রসবের জন্য কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিতে ওটিতে নেওয়ার পূর্বেই প্রসূতি মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের স্বজনরা শুরু থেকেই এটিকে সুনির্দিষ্ট ভুল চিকিৎসা ও অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। ঘটনার পর দৈনিক ‘স্ফুলিঙ্গ’ পত্রিকায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলাজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।
এদিকে সাজা কার্যকরের পর আজ বিকেলে মা-হারা সেই নবজাতক শিশুটিকে একনজর দেখতে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামে প্রসূতির বাবার বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি সদ্যজাত শিশুটির শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং পরম মমতায় শিশুটির নানির হাতে প্রয়োজনীয় শিশুখাদ্য, ব্যবহার্য সামগ্রী ও নগদ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা তুলে দেন।
ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আইন লঙ্ঘনকারী ক্লিনিকটির অবহেলার সত্যতা পেয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই মাতৃহীন শিশুটির জীবনের নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসার জন্য প্রশাসন পাশে দাঁড়িয়েছে। শিশুটির ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ও লালন-পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” ছবি সংগৃহীত।

