মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ‘ট্রাইভেন্ট্রিকুলার হাইড্রোসেফালাস’ নামের বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত ১১ বছরের শিশু জিনিয়া খাতুনের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এসএসসি-২০০৮ ব্যাচের বন্ধুদের গড়া সামাজিক সংগঠন ‘ওয়েলফেয়ার ফান্ড’।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা ভূষণ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে শিশু জিনিয়া ও তার দিনমজুর বাবার হাতে চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত নগদ অর্থের তহবিল তুলে দেন সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
অসুস্থ জিনিয়া খাতুন মেহেরপুর সদর উপজেলার গোরস্থানপাড়া এলাকার রাজমিস্ত্রি জাহিদ আহমেদের জ্যেষ্ঠ কন্যা। বর্তমানে সে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বিখ্যাত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল। তবে প্রায় তিন বছর আগে হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের ডান অংশে জটিল টিউমার শনাক্ত করা হয়। সময় বাড়ার সাথে সাথে ব্যাধিটি মারাত্মক আকার ধারণ করায় বর্তমানে শিশুটির হাঁটাচলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অবিলম্বে জটিল অস্ত্রোপচার করানো না গেলে মেয়েটি চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।
পেশায় রাজমিস্ত্রি জাহিদ আহমেদ জানান, কন্যার জীবন রক্ষায় ও প্রাথমিক চিকিৎসায় ইতোমধ্যে নিজের জমানো সমস্ত সম্বল ভেঙে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করে ফেলেছেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা জরুরিভিত্তিতে যে বড় অপারেশনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার জন্য নতুন করে আরও প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন। একই সাথে অস্ত্রোপচার পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের জন্যও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা তাঁর মতন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে জোগাড় করা একদমই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত পপুলার মেডিকেল কলেজের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সাব্বির শরীফ জানান, মূলত এই বিরল রোগে রোগীর মস্তিষ্কে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অতিরিক্ত তরল জমতে থাকে, যার ফলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও সংবেদনশীল অঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। তবে সময়মতো অস্ত্রোপচার ও সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অসচ্ছল বাবা জাহিদ আহমেদ নিজ মেহেরপুর এলাকায় কন্যার প্রাণরক্ষার আকুতি জানিয়ে মাইকিং করছিলেন। সেই করুণ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসএসসি-২০০৮ ব্যাচের বন্ধুদের নজরে আসার পরপরই দ্রুত এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উক্ত তহবিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ‘ওয়েলফেয়ার ফান্ড’-এর সভাপতি শেখ সাদি রোম ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ হোসেন কাননসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

