স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সদরপুরে এক ন্যক্কারজনক ও মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক সুরাহা না নিয়ে প্রকাশ্যেই ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী স্থানীয় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী। গত শনিবার তিনি বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ভিটায় ফেরেন। ওই দিন গভীর রাতে তাঁর শয়নকক্ষ থেকে এক যুবককে আটক করার দাবি করে স্থানীয়রা তাঁদের সারারাত একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরদিন রবিবার বিকেলে বর্বরোচিত কায়দায় ওই তরুণীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেওয়া হয় এবং পরে তাঁকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আটক হওয়া অপর যুবককে স্থানীয়ভাবে ছাড়িয়ে নেওয়া হলেও পুরো ঘটনার ভিডিও দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড ও ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দুটি আলাদা ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, একটি দৃশ্যে চেয়ারে বসিয়ে জোরপূর্বক এক নারীর মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন এক যুবক এবং তাঁর হাত ধরে রেখেছেন অন্যজন। অপর একটি ভিডিওতে ওই নারী ও এক যুবককে রাতের আঁধারে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে বেদম মারধর করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্থানীয় প্রতিবেশী ইউসুফ ব্যাপারীর দুই নাতি সুমন হোসেন ও জয় হোসেন এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ভিডিও ফুটেজ ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। অপরাধ প্রমাণের সুনির্দিষ্ট আইনি পথ থাকলেও কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না বলে উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ারি দেন যে, এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ছবি সংগৃহীত।
