নানাবাড়ির অদূরে মিলল নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র নাঈমের নিথর দেহ

নানাবাড়ির অদূরে মিলল নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র নাঈমের নিথর দেহ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নানাবাড়িতে রাত কাটিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া মো. নাঈম (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কিশোরের থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামে নানাবাড়ির মাত্র ১০০ গজ দূরে একটি ধানখেত সংলগ্ন কাঁচা সড়ক থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার ইব্রাহিম খলিলের ছেলে। পিতামাতার বিচ্ছেদের পর থেকে সে সুবর্ণচরে নানার আশ্রয়ে থেকে স্থানীয় চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছিল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার মাদ্রাসা থেকে নানার বাড়িতে আসে নাঈম। সোমবার রাতের খাবার শেষে পরিবারের অন্যদের সঙ্গেই ঘুমাতে যায় সে। তবে মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান ঘরের মূল দরজা খোলা এবং নাঈম তার বিছানায় নেই। পরবর্তীতে সকাল ৭টার দিকে জমিতে সার দিতে যাওয়ার পথে নানাবাড়ির অদূরে সড়ক ও ধানখেতের সীমানায় নাঈমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও পূর্বশত্রুতার ইঙ্গিত দিয়ে নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যা অভিযোগ করেন, “প্রায় তিন বছর আগে আমার মেয়ের সাথে ইব্রাহিমের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সম্প্রতি মেয়েটির দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ার পর থেকেই নাঈমের বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমার মেয়েকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল। নাঈমের মা সন্দেহ করছেন, তার প্রাক্তন স্বামী ইব্রাহিম খলিলই প্রতিশোধ নিতে ছেলেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।”

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর পর সকালে নাঈমের বাবাকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। দুপুরে ফোন ধরে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। অভিযুক্ত বাবা ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। তিনি জানান, কিশোরের থুতনির নিচে আঘাতের অস্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত ও নিবিড় তদন্তের পরই এটি হত্যা নাকি অন্য কিছু, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিহতের বাবার সঙ্গে পুলিশের ফোনে কথা হয়েছে; তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ টিম।  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *