অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র  ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নোয়াখালী জেলার সুধারাম মডেল থানাধীন পূর্ব এওয়াজবালিয়া এলাকায় অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে গোপনে পরিচালিত একটি সশস্ত্র মাদক আস্তানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যৌথ বাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, সতেজ কার্তুজ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইয়াবাসহ ৩ জন সশস্ত্র মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—সুধারাম মডেল থানাধীন পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ মিয়ার ছেলে ও গ্যারেজ মালিক মামুন উর রশিদ (৩৭), করমুল্যা বাজার এলাকার মো. আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) এবং দাদপুর ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামের মাফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অভিযানকালে গ্যারেজের ভেতরের গোপন কক্ষ থেকে ৪৪ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটার পাইপগান, ১টি সতেজ সীসা কার্তুজ, ৩টি আধুনিক মোবাইল ফোন, ৩টি আইপি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ইয়াবা সেবনের নানাবিধ সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ডিএনসির একটি চৌকস টিম, এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইনের নেতৃত্বে অপর একটি টিম এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে পুলিশের যৌথ দল ৮ নম্বর এওয়াজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামে অবস্থিত মামুন উর রশিদের গ্যারেজে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, অটোরিকশা গ্যারেজের ভেতরে হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে তৈরি একটি গোপন বিশ্রামকক্ষকে ইয়াবা বিক্রয় ও সেবনের জন্য নিরাপদে ব্যবহার করা হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগমন ও নজরদারি আগে থেকেই টের পাওয়ার উদ্দেশ্যে পুরো আস্তানায় আইপি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে যে, এলাকায় অপরাধমূলক আধিপত্য বিস্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ এনে মজুদ রেখেছিল।

ডিএনসি নোয়াখালী সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট সুধারাম মডেল থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ১৮৭৮ সালের কঠোর অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে যৌথ বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *