পার্লারে চাকরির লোভে এনে পর্নোগ্রাফি নির্মাণ!

পার্লারে চাকরির লোভে এনে পর্নোগ্রাফি নির্মাণ!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

বিউটি পার্লারে আকর্ষণীয় বেতনে কাজের লোভ দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদের ডেকে এনে ঘরে অবরুদ্ধ রেখে জোরপূর্বক পর্নোগ্রাফি তৈরিতে বাধ্য করার এক বিভৎস ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পরিচালিত পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে এই অপরাধ চক্রের মাস্টারমাইন্ড—একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, তাঁদের দুই সন্তান এবং অপর এক সহযোগীসহ সর্বমোট পাঁচজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে। একই সাথে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারজন ভুক্তভোগী তরুণীকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুরস্থ রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে এই অভিযান চালানো হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—মূল উদ্যোক্তা মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাঁদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং তাঁদের সহযোগী আব্দুর রহিম। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত পরিবারের স্থায়ী নিবাস কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও তারা বহু দিন ধরে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসা বদলে লুকিয়ে এই অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছিল।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীদের অনৈতিক কাজে রাজি করাতে ও চাবুক মেরে শারীরিক নির্যাতন চালানের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। মূলত আটকে রাখা তরুণীদের মধ্যে এক সাহসী তরুণী আসামিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে নিজের করুণ আকুতি জানান। বার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

অভিযান পরিচালনাকালে ওই আস্তানা থেকে একটি পেশাদার ভিডিও ক্যামেরা, ৬টি স্মার্টফোন, নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত ১টি চাবুক, ধারালো ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, সহজ-সরল মেয়েদের আকর্ষণীয় চাকরির কথা বলে বাসাটিতে এনে প্রথম দিনই মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হতো। এরপর অস্ত্রের মুখে ও নির্যাতনের ভয়ে তাঁদের পর্ন ভিডিও বানাতে বাধ্য করা হতো, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অনলাইন অ্যাপে সম্প্রচার করে প্রচুর টাকা আয় করত চক্রটি।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত তরুণীদের তাঁদের স্বজনদের জিম্মায় তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়পর্যায়ে এই অপরাধ নেটওয়ার্কের সাথে অন্য কোনো চক্র যুক্ত আছে কি না, তা অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *