জাকির হোসাইন তুষার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মধুমতি নদীর করাল গ্রাসে পরপর তিনবার বসতভিটা হারিয়ে চরম কষ্টে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনেছিলেন সাবেক নারী ইউপি সদস্য ঝর্না বেগম। তবে নিয়তির নির্দয় পরিহাসে সেই নদীর দংশনের ক্ষত সামলে ওঠার আগেই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাঁর অবশিষ্ট শেষ সম্বলটুকুও।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঝামা গ্রামে ঝর্না বেগমের বসতবাড়িতে এ হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরের আসবাবপত্র, জরুরি দলিলাদি ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ঝর্না বেগমের বসতঘর থেকে হঠাৎ করে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ডাক-চিৎকারে স্থানীরা ছুটে এসে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্গম চরাঞ্চল এলাকা হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। প্রাথামিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেশীরা আক্ষেপ করে বলেন, “নদীর পারের এই পরিবারটি মধুমতির ভাঙনে বারবার নিঃস্ব হয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেছিল। সেই ঘরটিও আগুনে পুড়ে তারা আজ সম্পূর্ণ খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়াল।”
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি। তিনি স্বচক্ষে ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখেন, কান্নায় ভেঙে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করেন।
এ সময় মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ান এবং স্থানীয় সমাজসেবক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই দুর্ভাগা পরিবারটির দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসার মানবিক আহ্বান জানান। ছবি প্রতিবেদক।

