তালাবদ্ধ ঘরে গলাকাটা পচন ধরা লাশ !

তালাবদ্ধ ঘরে গলাকাটা পচন ধরা লাশ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানী সংলগ্ন আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়াকক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পচনধরা ও বীভৎস গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের রুদ্ধশ্বাস ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুনের মূল রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত ব্যবহারে অপরাধী মোঃ আল-আমিনকে গ্রেফতার করা ছাড়াও নিহতের চুরি হওয়া মোবাইল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে। আশুলিয়া থানাধীন বাসাইদ এলাকার রাজু সিটির সামনে আমির আলীর মালিকানাধীন একটি তালাবদ্ধ ভাড়াঘর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশে খবর দেন। আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে অজ্ঞাত এক পুরুষের পচা-গলা লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন টিম তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হয়ে উন্নত ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ কামরুল খান (৪৪)। তিনি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত গ্রামের মরহুম করিম খানের পুত্র।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহতের মামাতো ভাই মোঃ জামিল শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১০০, তারিখ: ১৭/০৮/২০২৬) দায়ের করেন। পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ জামাল উদ্দীন, বিপিএম-এর নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই খুলনার প্রত্যক্ষ সহায়তায় গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে খুলনা জেলার তেরখাদা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মোঃ আল-আমিনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর তার তল্লাশি চালিয়ে নিহত কামরুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আশুলিয়ার সেই অকুস্থলের বাথরুমের প্যানের ভেতর লুকিয়ে রাখা রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের গভীর তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত কামরুল এবং গ্রেফতারকৃত আল-আমিন খুলনার তেরখাদার বাল্যবন্ধু। কাজের সন্ধানে গত ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে তারা ঢাকায় এসে আশুলিয়ায় ওই রুমটি ভাড়া নেন এবং রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। ১৪ আগস্ট রাতে জমানো টাকা শেষ হয়ে গেলে আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা দাবি করে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার একটি ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন কায়দা করে ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় সজোরে আঘাত করে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামরুল ঘটনাস্থলেই নিভে যান। এরপর ঘটনা ঢাকা দিতে এবং আলামত লোপাট করতে আল-আমিন ছুরিটি বাথরুমের প্যানে ফেলে দেন এবং ঘরে তালা ঝুলিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান। ভাড়ার সময় মালিক কোনো পরিচয়পত্র না রাখায় আসামির তথ্য পাওয়া কঠিন হলেও পিবিআইয়ের প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্তে দ্রুতই ঘাতক চিহ্নিত হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে নেওয়া হলে সে বিচারকের সামনে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এ বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও কেউ যুক্ত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে পিবিআইয়ের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *