তরুণদের দিয়ে অনলাইনে অনৈতিক কাজ!

তরুণদের দিয়ে অনলাইনে অনৈতিক কাজ!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

কম্বোডিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের সেখানে জিম্মি করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে এক পাচারকারী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার সাভারের আলমনগর হাউজিং এলাকা থেকে অভিযুক্ত মোঃ জিহাদ আলী লস্কর ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী দল। আজ মঙ্গলবার তারা আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পিবিআই সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, খুলনার দৌলতপুরের স্থানীয় বাসিন্দা জিহাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে কম্বোডিয়ায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। প্রতিশ্রুত ১ লক্ষ টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে তারা দৌলতপুরের মোঃ মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুলসহ অন্তত পাঁচজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠায়।

তবে কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর তাদের কাঙ্ক্ষিত কাজ না দিয়ে একটি বন্দিশালা টাইপ ডেরায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের কণ্ঠ পরিবর্তন করে অ্যাপসের মাধ্যমে নারী সেজে ইউরোপ-আমেরিকার মধ্যবয়সী পুরুষদের সাথে অনলাইন সেক্সুয়াল প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের কাজে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগীদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না, এমনকি ঠিকমতো খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও মিলত না। পরবর্তীতে বন্দিদশা থেকে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফেরত আসেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

দেশে ফিরে ভুক্তভোগীরা কোনো উপায় না পেয়ে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় পিবিআই খুলনা বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করলে দৌলতপুর থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-১৪ ও ১৫, তারিখ: ২৩/০৭/২০২৬) রুজু হয়। গত ২৭ জুলাই মামলা দুটির তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে পিবিআই-এর এসআই রেজোয়ান ও এসআই সোহানুর রহমানের একটি বিশেষ দল।

তদন্তে ও আসামীদের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে যে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মূল অভিযুক্ত জিহাদ দেশে ফিরে এলে ভুক্তভোগীরা পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় ধরা পড়ার ভয়ে জিহাদ ও তাঁর স্ত্রী ঢাকার সাভারে গিয়ে গোপনে বসবাস শুরু করেন।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করার পর তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানব পাচার চক্রের সাথে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অন্য কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *