ডাঃ কেরামত আলী,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের মারাত্মক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রতিকার ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়ে আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন জাতীয় দৈনিক ‘আলোকিত সকাল’ ও ‘দক্ষিণের মশাল’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আরাফাত আলী।
বিজ্ঞাপন
লিখিত অভিযোগের তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী পিআইও কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের তথ্য চেয়ে নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা দিতে যান সাংবাদিক আরাফাত আলী। এ সময় পিআইও মফিজুর রহমান চাহিত তথ্য সরবরাহ করার বাবদ তাঁর কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পিআইও। তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পাশাপাশি অত্যন্ত কটু আচরণ করেন।
অভিযোগে সাংবাদিক আরাফাত আলী উল্লেখ করেন, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পিআইও মফিজুর রহমান পেশাগত কাজে ব্যবহৃত তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী মিন্টু বিশ্বাসের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া ফোনটি ফেরত পান ওই সাংবাদিক।
ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ী পিআইও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

