মোঃ মাসুদ রানা,কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবস্থানরত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের আগে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় প্রশাসনের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উক্ত ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ‘উই কেয়ার ফেজ-১ (N-7)’ প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ কেস নং-০১/২২-২৩-এর মাধ্যমে অধিকাংশ ভূমি মালিকরা ইতিমধ্যে তাঁদের ভূমির ক্ষতিপূরণের অর্থ পেলেও একই স্থানে ব্যবসা চালিয়ে আসা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের কারণে কালীগঞ্জ অংশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে পরিবার-পরিজনসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবিকা ও জীবনযাত্রায় গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারার ৩(ক) উপধারা অনুযায়ী অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-রোজগার বন্ধ ও স্থানান্তর ব্যয়সহ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। একই ‘উই কেয়ার ফেজ-১’ প্রকল্পের আওতায় যশোরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝিনাইদহ অংশে তা না দেওয়াকে চরম বৈষম্য বলে দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ব্যবসায়ীরা ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন: ১. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা করা। ২. ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখা এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ঝিনাইদহ অংশের অধিগ্রহণকৃত মৌজা, দাগ ও খতিয়ানের তথ্য প্রকাশ করা। ৩. গত ১৬ জুলাই ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের গত ২০ আগস্টের প্রদত্ত আদেশের সঠিক বাস্তবায়ন করা। ৪. একই প্রকল্পে যশোরের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পেলে ঝিনাইদহ অংশের বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চালানো।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিগত দিনে একাধিকবার আবেদন ও শুনানিতে অংশ নিয়েও কোনো কার্যকর সুরাহা মেলেনি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা। ছবি সংগৃহীত।

