স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছায় রওজাতুল জান্নাত বালিকা হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে নিপীড়নের চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদগুলো প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বপ্রণোদিত হয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ইস্যুকৃত স্মারক নম্বর অনুযায়ী গঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়ালীয়ার রহমানকে। এছাড়া কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম এবং আইসিটি অফিসার মো. অহিদুল ইসলাম।
নির্ধারিত কমিটিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল দশটায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় বাদী, বিবাদী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠানটির পটভূমি সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, শ্রীরামপুর আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং বায়তুল আকসা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহমান ২০২১ সালে ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের হাসপাতাল রোডে তাঁর স্ত্রী রুবিনা খাতুনের নামে পাঁচ শতক জমি কিনে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যার মধ্যে ৩৫ জন আবাসিক ছাত্রী। তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি সংকীর্ণ কক্ষে হিফজ বিভাগের ছাত্রীদের গাদাগাদি করে বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে দুই জমজ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্ত পরিচালক ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আকবর হোসাইন, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুস শুকুর, মাওলানা ছদর উদ্দিন, সদস্য সাইফুল্লাহ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক মুফতি শামীম মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক মুফতি ইবাদুর রহমান, ফতোয়া বিষয়ক সম্পাদক মুফতি আজহারুল ইসলাম, রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, স্থানীয় ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং সংক্ষুব্ধ অভিভাবক রেশমা খাতুন, লিপি খাতুন, রুবিনা রহমান, হাফসা খাতুন, সাকিয়া খাতুন, শুকজান বেগম ও আছিয়াসহ অনেক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।ছবি সংগৃহীত।
