মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ভোরবেলায় নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় এক পরিবহন কর্মচারী রাজনৈতিক নেতার নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা ভেবে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, গোসল করানোর মুহূর্তে মরদেহের মাথার পেছনে একটি গভীর ক্ষত চিহ্ন উন্মোচিত হওয়ায় পুরো ঘটনার মোর ঘুরে গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটিকে সুকৌশলে হৃদরোগে মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম শাকের হোসেন (৩৯)। তিনি মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়ার মরহুম কুতুবউদ্দিনের ছেলে এবং মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। একই সাথে তিনি গত ১৭ বছর ধরে পারনান্দুয়ালী টার্মিনালস্থ রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পরিবহন কাউন্টার ও স্বজনদের সূত্র জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্টারে আসেন শাকের। ভোর ৫টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সহকর্মীদের সাথে মোবাইল ফোনে স্বাভাবিক কথা বলেন তিনি। তবে এর ঠিক দশ মিনিট পর ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভোর সাড়ে পাঁচটার নির্ধারিত বাসের কন্ডাক্টর কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করতেই শাকেরকে টেবিলের পাশে অচেতন ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি করে তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাহ্যিক কোনো বড় আঘাত দৃশ্যমান না থাকায় চিকিৎসকরা এটিকে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা প্রকাশ করেন। স্বজনেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে লাশ দাফনের জন্য নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর শেষ গোসল করানোর আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন স্বজনেরা স্বাধীনের মাথার পেছনের অংশে একটি গোলাকার গভীর ক্ষত এবং রক্তক্ষরণের আলামত দেখতে পেয়ে আঁতকে ওঠেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিজনেরা অবিলম্বে মরদেহ আবার ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে ফেরত আনেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার মাইনুল হাসান জানান, লাশের মাথার চুল শেভ করার পর একটি পেনিট্রেটিং বা পাংচার জাতীয় মারাত্মক ক্ষত পাওয়া গেছে। তবে এটি দূর থেকে করা গুলির আঘাত নাকি অন্য কোনো ভারী বস্তুর খোঁচা, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক টিম ও পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এদিকে স্বজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের দাবি, ভোরে দুটি লোক মোটরসাইকেলে আসে। এ সময় মোটরসাইকেলে জোরে সাইলেন্সার বাজানো হয়; এমনকি একজন যাত্রী গুলির শব্দ শোনার কথাও বলেছেন। কাউন্টারের টেবিল ও মেঝের ওপর ছোপ ছোপ রক্তের দাগ পাওয়া যাওয়াকেও তাঁরা হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত হিসেবে দেখছেন।
সংবাদ পেয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ ও মামলা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

