স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকার আশিবিঘায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে গুলি করে হত্যার এক বিভীষিকাময় ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনায় এক তরুণকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এর মাত্র তিন ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক তরুণের রক্তাত্ গুলিবিদ্ধ মরদেহ। একের পর এক এমন সহিংসতায় রূপসা ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মাসেই জেলাটিতে অন্তত পাঁচটি নৃশংস খুনের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের একজন মঞ্জুরুল ইসলাম (২২), যিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন এবং স্থানীয় খোকন সানের ছেলে। অন্যজন একই এলাকার বাসিন্দা মনির শেখের ছেলে নাজমুল (১৮)। ঘটনা দুটির ধরন ও স্থান কাছাকাছি হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে প্রকাশ, বুধবার বিকেলে আশিবিঘা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে স্থানীয় তরুণরা ফুটবল খেলতে নামেন। খেলাচলাকালীন মঞ্জুরুলের সাথে কয়েকজন যুবকের তীব্র কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। খেলা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মঞ্জুরুল আশিবিঘা কালভার্টের পাশে এক বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ক্ষিপ্ত একদল যুবক সেখানে গিয়ে পুনারায় তর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মঞ্জুরুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম জানান, ফুটবল খেলার তুচ্ছ বিরোধ থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে এর নেপথ্যে অন্য কোনো পুরনো শত্রুতা আছে কিনা তা গভীর তলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় সক্রিয় সাইফি ও রাজু গ্রুপ নামে দুটি স্থানীয় অপরাধী চক্রের কোনো হাত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে মঞ্জুরুল হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিবিঘার অন্য প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা হয় নাজমুল নামে এক তরুণের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ। ঘটনাস্থলে আলামত হিসেবে গুলির খোসা মিলেছে। নিহত নাজমুলের বাবা মনির শেখ জানান, বুধবার বিকেল চারটার দিকে চুল কেটে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন মুখোশধারী যুবক নাজমুলকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার মোবাইল ও খোঁজ বন্ধ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাতে আশিবিঘায় তার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, জোড়া খুনের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।
প্রসঙ্গত, খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের চিত্র আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ১৮ আগস্ট রায়েরমহলে রাজু নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং একই রাতে রূপসার নৈহাটিতে মীর মামুনকে মাথায় গুলি করে মারাত্মক আহত করা হয়। এর আগে ১৫ আগস্ট আইচগাতীতে জয় ঢালিকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা এবং ১১ আগস্ট কিসমত খুলনার একটি ইটভাটায় যুবদল কর্মী ফখরুল শেখকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মূল অপরাধীরা বারবার অধরা থেকে যাওয়ায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

