মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (উই কেয়ার ফেজ-১, N7) আওতায় অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিশাল মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের টানা প্রায় দুই ঘণ্টার তীব্র অবরোধে মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যান চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন মহাসড়কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, দোকানদার ও শ্রমিক-কর্মচারীরা একজোটে এই কর্মসূচির সূচনা করেন। কর্মসূচিতে তারা অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইনানুগ নিয়মে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলেও ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ অংশের ক্ষতিগ্রস্তরা রহস্যজনকভাবে তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ বিষয়ে ক্ষতিপূরণ ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের নিকট একাধিকবার লিখিত আবেদন জমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্তরা আরও উল্লেখ করেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি জনবহুল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাঁদের ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং তা সমাধানের জন্য ১৫ দিনের আলটিমেটাম দেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের নির্ভুল তালিকা তৈরি, ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন মেনে বর্তমান বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হওয়ার পূর্বে স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখা, যশোরের মতো কালীগঞ্জেও সমান সুবিধা প্রদান, বরাদ্দের অর্থে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী অধিগ্রহণের সমুদয় তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করে কোনো অবস্থাতেই তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি বিষয়টির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উই কেয়ার প্রকল্পের কালীগঞ্জ অংশের কাজ বন্ধ রাখারও আহ্বান জানান তাঁরা। আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তোলেন, একই জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পে যশোরের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পেলে কালীগঞ্জের প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা কেন বৈষম্যের শিকার হবেন?
এদিকে সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হঠাৎ অবরোধের কারণে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের দুপাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট গাড়ি আটকা পড়ে। তীব্র দাবদাহ ও দীর্ঘ যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল ও আন্দোলনস্থলে এসে পৌঁছান। তিনি আন্দোলনকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে তাঁদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো শোনেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ে অবহিত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। উপজেলা প্রশাসনের ইতিবাচক আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর ঐতিহ্যবাহী এই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ছবি প্রতিবেদক।
