বিশেষ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া:
প্রথম সন্তান হারানোর বুকভাঙা বেদনা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একই সাথে ফুটফুটে তিন সন্তানের জন্ম দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার এক প্রসূতি। কোনো প্রকার বড় অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান সেকশন) ছাড়াই সফল ‘নরমাল ডেলিভারি’র মাধ্যমে এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন বিরল ও আনন্দঘন ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় ও খুশির জোয়ার বইছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলামের পরিবারে। তাঁর স্ত্রী মোছা. আমান্না খাতুন গত বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শহরের রয়েল ক্লিনিকে তিন সন্তান জন্ম দেন।
বিজ্ঞাপন
ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, জটিল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই নরমাল ডেলিভারিটি পরম দক্ষতা ও সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শারমিন আক্তার মৌসুমি । নরমাল ডেলিভারিতে একসাথে তিন সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে অত্যন্ত বিরল। প্রসূতি ও জন্ম নেওয়া তিন নবজাতকই এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিবাহিত জীবনে এর আগে সিরাজ-আমান্না দম্পতির প্রথম সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়। সন্তান হারানোর সেই করুণ স্মৃতি ও দীর্ঘদিনের নিদারুণ মানসিকভাবে ভাঙা দিনগুলোর পর এবার একসাথে কোলজুড়ে তিন নবজাতকের আগমনে দম্পতির ঘরে বইছে আনন্দের ফলগুধারা।
সন্তানদের পিতা সিরাজুল ইসলাম আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “প্রথম সন্তানকে হারিয়ে আমরা খুব ভেঙে পড়েছিলাম। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় এবার একসাথে তিন সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় কোলে পেয়েছি। আমরা আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করছি।”
নরমাল ডেলিভারিতে একই সাথে ৩ সন্তানের জন্ম নেওয়ার এই অভাবনীয় খবরটি খাজানগরসহ আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। নবজাতক ও প্রসূতি মাকে একনজর দেখার জন্য হাসপাতাল ও স্বজনদের বাড়িতে শুভাকাঙ্ক্ষীদের আগমন ঘটছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে তিনটি শিশুর সুন্দর ও সুস্বাস্থ্যময় ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা চাওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

