বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া
এক রাতের ব্যবধানে একটি স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল কলাপাড়ায়। মানুষের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও শত্রুতার বলি হতে হলো খাঁচায় থাকা অবলা প্রাণীদের। কলাপাড়া পৌরশহরের সবুজবাগ এলাকায় এক শিক্ষকের বাসায় বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে দুই শতাধিক দেশি মুরগি মেরে ফেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার জানা গেছে, কলাপাড়া মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাকিম মৃধার পরিবারটি মাস দুয়েক আগে তাদের বসতবাড়িতে দুটি ছোট খামার তৈরি করেন। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় প্রায় দুই শত দেশি মুরগির বাচ্চা এনে অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করে আসছিলেন গৃহকর্ত্রী। একেকটি মুরগির ওজন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামে পৌঁছেছিল।
বিজ্ঞাপন
রবিবার শেষ রাতেও খামারের সবকটি পাখি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল সাতটার দিকে খামারে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ দৃশ্য। খামারের ভেতর ছটফট করে মরে পড়ে আছে সবগুলো দেশি মুরগি। পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো দুষ্কৃতকারী গভীর রাতে খামারে বিষাক্ত গ্যাস বা তীব্র বিষ প্রয়োগ করে এসব প্রাণীকে হত্যা করেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রাণী সম্পদ দপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা মোঃ আলী আহসান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, কোনো তীব্র বিষক্রিয়ার ফলেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিপুল সংখ্যক মুরগির মৃত্যু ঘটেছে।
নিজের চোখের সামনে এক রাতের ব্যবধানে পরম যত্নে গড়ে তোলা খামার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারটি। অবলা প্রাণীর প্রতি এমন নির্মম ও বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকার সচেতন নাগরিকরা। ছবি প্রতিবেদক।

