স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাউল সম্রাট ও মানবতাবাদী মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে যশোরে ঐতিহ্যবাহী ভাবগানের এক নান্দনিক আসরের আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্যসংঘ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় প্রাচ্যসংঘের কার্যালয় ও প্রাঙ্গণে এই ভাবগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতাকর্মী, বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক ও লালনপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রাচ্যসংঘের সভাপতি খবির উদ্দিন সুইট। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহানূর রহমান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাচ্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা গবেষক বেনজীন খান, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমসহ প্রাচ্যসংঘের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত ভাবগানের পরিবেশনা। আসরে আমন্ত্রিত ও সংগঠনের শিল্পীরা লালন সাঁইয়ের গভীর তত্ত্বসমৃদ্ধ গান পরিবেশন করে উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। শিল্পী আলমগীর হোসেন এ সময় পরিবেশন করেন ‘আমি অপর হয়ে বসে আছি’, ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’ এবং ‘পরের দ্রব্য পরের নারী’। এরপর শিল্পী মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন একে একে গেয়ে শোনান ‘সত্য বল সুপথে চল’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ এবং ভক্তদের হৃদয়ে নাড়া দেওয়া বিখ্যাত গান ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’। এছাড়া শিল্পী শহিদুল ইসলাম পরিবেশন করেন ‘যেখানে সায়ের বারামখানা’ ও ‘ধরো চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদে’-এর মতো জনপ্রিয় মরমি গান।
বক্তারা বলেন, ফকির লালন শাহ ছিলেন এমন একজন অনন্য মানবতাবাদী সাধক, যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও জাতপাতের সকল সংকীর্ণ সীমানা পেরিয়ে মানবতাকে সর্বোচ্চ আসনে স্থান দিয়েছিলেন। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সাম্যের বাণী যুগ যুগ ধরে মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে আসছে। প্রাচ্যসংঘের এই ভাবগানের আসরে পরিবেশিত লালনের সৃষ্টিশীল গানগুলোতে সেই শাশ্বত বাণী ও মানবতার জয়গানই বারবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
