মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):
আখের দাম বৃদ্ধিতে চাষিদের আগ্রহ ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে এ রোপণ কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি এসটিপি পদ্ধতিতে আধুনিক আখ চাষ ও আগাম আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে এক উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মিলগেট সংলগ্ন পুকুরিয়া মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (সিএআইএস) মুন্সি মো. খলিল। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেশের ৯টি চিনিকল এলাকায় একযোগে এ বছরের আখ রোপণ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
বিজ্ঞাপন
মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আ.ন.ম. জোবায়েরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিলের কৃষি ব্যবস্থাপক গৌতম কুমার মণ্ডল, অর্থ ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম এবং প্রবীণ আখচাষি মাজেদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রান্তিক চাষিগণ।
চিনিকল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, চলতি ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমে সর্বমোট ৪৩ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন মাড়াই মৌসুম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে মিল এলাকায় ৪ হাজার ১০ একর জমিতে পরিপক্ক দণ্ডায়মান আখ রয়েছে, যা দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে টানা প্রায় দুই মাস মাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
কৃষকদের উৎসাহিত করতে আসন্ন মাড়াই মৌসুমের পূর্বেই আখের সরকারি সংগ্রহ মূল্য বৃদ্ধি করে মণপ্রতি ২৬০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিগত মৌসুমে ছিল ২৫০ টাকা। পূর্বে স্বল্পমেয়াদি ফসলের দাপটে আখের আবাদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলেও, ধারাবাহিক দরবৃদ্ধি ও গত মৌসুমে সরবরাহকৃত আখের টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করায় কৃষকরা পুনরায় আখ চাষে মুখরিত হয়ে উঠছেন। এবারও আখের পাওনা দ্রুততম সময়ে মেটানোর সুসংবাদ দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।ছবি সংগৃহীত।


