স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র লালদীঘিরপাড়স্থ মাইকপট্টি মোড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল এবং রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অপরাধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যশোর জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীকে অভিযুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা রুজু করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশি অভিযানে ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, চিহ্নিত প্রাথমিক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার যুবলীগ নেতা শেখ শহিদ, পুরাতন কসবার ইমরান হোসেন খান বাদল, শংকরপুরের মোহাম্মদ আলী, তেঁতুলিয়ার বিপ্লব হোসেন, ভাতুড়িয়ার তানভীর, পুলিশ লাইন ঘোষপাড়ার রফিকুল ইসলাম রহমত, চৌরাস্তার সানোয়ার হোসেন সানু, শংকরপুরের রনি ও পারভেজ, বারেক সড়কের রসুল ও আবির, পুরাতন কসবার সাজ্জাদুল ইসলাম রকি ওরফে সোহাগ, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান শাকিল, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন শাহ, সভাপতি সরোয়ার হোসেন সারু, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর মৌরি ও আবু তাহের, সোহাগ হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দার রহমান, খোলাডাঙ্গার শহিদুল গাজী, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেন অভি, বেজপাড়ার সুজন ইসলাম সাজু, চুড়ামনকাটির বিপ্লব বকশি, মণিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শিবলী এবং কুলটিয়ার জাহিদ হাসান সানিসহ ৫৫ জন।
ইতোমধ্যেই পুলিশি বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জন হলেন— শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন বাদল, মোহাম্মদ আলী, বিপ্লব হোসেন, তানভীর, রফিকুল ইসলাম, রকি, সোহাগ, তারেক আজিজ, নুর আলম, শানু, কামরুজ্জামান, মকবুল হোসেন, হৃদয়, সুমন শেখ এবং সেলিম।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে দড়াটানা মোড়ে টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী বেআইনিভাবে লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি এলাকায় জড়ো হয়ে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং বর্তমান সরকারকে উৎখাতসহ বড় ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গলি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ভোররাতের সুযোগ নিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টায় এই সংক্ষিপ্ত মিছিলটি বের করা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেবল এই মামলাই নয়, পুরো যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুরক্ষিত রাখতে ৯টি থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানাধীন ১৭ জন (যার মধ্যে ৭ জন সরাসরি এই মিছিলে অংশ নিয়েছিল), চৌগাছা থানায় ২ জন, মণিরামপুরে ৩ জন, শার্শায় ২ জন, অভয়নগরে ৪ জন, কেশবপুরে ৩ জন, বাঘারপাড়ায় ৪ জন, বেনাপোল পোর্টে ৪ জন এবং ঝিকরগাছা থানায় ২ জন আসামি আটক রয়েছে। অপরাধীদের ওপর নজরদারি ও গ্রেপ্তারে জেলাজুড়ে পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছবি সংগৃহীত।

