স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু ও হাম রোগের সংক্রমণ থামছেই না। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত দুটি পৃথক দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী এবং ১২ জন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. শামসুল ফালাক স্বাক্ষরিত ডেঙ্গু স্বাস্থ্য বুলেটিনে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ১৮৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন ভর্তি ২১ জনের মধ্যে অভয়নগরে ৮ জন, বাঘারপাড়ায় ৮ জন, চৌগাছায় ১ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন, কেশবপুরে ১ জন, মণিরামপুরে ১ জন, শার্শায় ৭ জন এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হন।
প্রতিবেদনে স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২ জনই রয়েছে, যাঁদের দুজনেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ১৬৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ ছাড়া জটিল পরিস্থিতির কারণে ৩৮ জন রোগীকে অন্যান্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ড. মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত ‘হাম রোগীর দৈনিক প্রতিবেদন’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর সদর ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালে ১২ জন সন্দেহজনক নতুন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ওই একই দিনে ১২ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে আদ্যবধি জেলায় মোট ৯৬৬ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৯৬২ জন নতুন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাসেবা শেষে ৭৩৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন, তবে বর্তমানে ২৩ জন হাম রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে জমানো পানি পরিষ্কার রাখা, মশার টাঙ্গিয়ে ঘুমানো এবং শিশুদের নিয়মিত হামের টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

