২২ মাথার এক গাছ !

২২ মাথার এক গাছ !

রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক (কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ):

দূর থেকে দেখলে যে কারোরই মনে হবে রাস্তার ধারে বেশ কয়েকটি শাখা-প্রশাখা ঘেরা একগুচ্ছ খেজুরগাছ ঝোপ বানিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে কিছুটা কাছে গিয়ে ভালো করে তাকালেই যে কারোরই চোখ বিস্ময়ে কপালে উঠবে— কারণ ভিন্ন ভিন্ন কোনো গাছ নয়, সবকটি মাথা যেন একই মূল গাছের একক কান্ড ও শরীর থেকে কুঁড়ির মতো ফুঁড়ে আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা সড়কে দেখা মিলছে প্রাকৃতিক অনন্য সৌন্দর্যের এই বিরল দৃশ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গাছটি এখন ব্যাপক কৌতূহলের প্রতীক হয়ে উঠে পরিচিত পেয়েছে ‘২২ মাথার খেজুরগাছ’ নামে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী অসংখ্য পথচারী একনজর দেখার জন্য থমকে দাঁড়াচ্ছেন, নিজেদের মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন ছবি ও ভিডিও। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ায় নেট দুনিয়াজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোড়ন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, বহু বছর আগে থেকে স্বাভাবিক অন্যান্য গাছের মতোই বেড়ে উঠছিল এই খেজুরগাছটি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোনো এক অজানা ও অবিশ্বাস্য প্রক্রিয়ায় মূল গাছের গোড়া ও কান্ডের বিভিন্ন অংশ থেকে একের পর এক নতুন মাথা বা শিখা বের হতে থাকে। বাড়তে বাড়তে বর্তমানে গাছটিতে সুনির্দিষ্টভাবে ২২টি পৃথক মাথা সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তবে গাছটির সঠিক বয়স কিংবা ঠিক কোন সময় থেকে এভাবে অস্বাভাবিক রূপ নেওয়া শুরু হয়েছিল, তা সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি স্থানীয়রা।

গাছটির এই অদ্ভুদ স্বাভাবিকতাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও উদ্ভিদপ্রেমীদের মনে দেখা দিয়েছে বিশাল জিজ্ঞাসা—এটি কি প্রকৃতির বিরল কোনো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, নাকি উদ্ভিদটির কোষীয় বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কোনো জিনগত বা জৈবিক মিউটেশন?

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, সচরাচর একবীজপত্রী খেজুরগাছে এই ধরনের একাধিক মাথা বা শাখা গজানোর ঘটনা খুবই দুর্লভ। তবে বিশেষ কোনো হরমোনজনিত বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে কান্ডের গ্রোথ পয়েন্টে একাধিক মেরিস্টেম তৈরি হলে এমনটি ঘটার বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা থাকে।

কোটচাঁদপুরের এই বিরল খেজুরগাছটি এখন কেবল কোনো সাধারণ গাছ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে কুশনা সড়কের এক অমূল্য ও অভাবনীয় জীবন্ত সৌন্দর্যে। উদ্ভিদবিদ ও কৃষি সংশ্লিষ্ট গবেষকরা সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করলে এই রহস্যের আসল উন্মোচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা। একই সাথে সঠিক সংরক্ষণ ও যত্ন নিলে আগামী দিনে এই স্থানটি কোটচাঁদপুর উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় ও অনন্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *