বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের হাতে শ্লীলতাহানি ও চাঁদাবাজির মতো হয়রানির শিকার হওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে। বিনা মূল্যের চিকিৎসাসেবার নাম করে রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা দাবি ও কুৎসিত আচরণের কারণে চরম ক্ষোভ ছড়াচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা এলাকার অধিবাসী মোর্শেদা বেগম তাঁর ছয় বছরের অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে গত শুক্রবার ওই সরকারি হাসপাতালে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দায়িত্ব পালনকালে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ রোগীর মায়ের কাছে সরাসরি ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করেন। ভিজিটের টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হবে না এবং রোগী কোনোদিন সুস্থ হবে না বলে স্পষ্ট হুমকি দেন ওই মেডিকেল অফিসার।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত মোর্শেদা বেগম জানান, আর্থিক অনটনের কারণে অনেক কষ্টে ধারদেনা করে ছেলেকে চিকিৎসার জন্য আনেন তিনি। বাইরে থেকে টেস্ট করিয়ে সেই রিপোর্ট নিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে গেলে মো. রিয়াজ তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁর পরামর্শ ছাড়া বাইরে থেকে কেন পরীক্ষা করানো হলো—এ অজুহাতে গালিগালাজ ও চরম অপমান করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা।
হাসপাতালে সেবার নামে মো. রিয়াজের এই স্বেচ্ছাচারিতা নতুন নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার দিনমজুর খালেক ও স্থানীয় অধিবাসী উখিন চান রাখাইন জানান, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য রোগীদের বাধ্য করা ও ভুল চিকিৎসা দেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে । টাকা না দিলে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
অভিযুক্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কিশলয় সাহা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিঞা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় কোনো কর্মকর্তার ভিজিট নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কঠোর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। ছবি প্রতিবেদক।


