র‍্যাব ও পুলিশের জালে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ ৮ ঘাতক

র‍্যাব ও পুলিশের জালে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ ৮ ঘাতক

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

শিল্পনগরী খুলনার লবণচরা থানার নিয়ন্ত্রণ ও পুরনো সংঘাতকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পেশাদার সন্ত্রাসী ও কিলিং স্কোয়াডের সদস্যদের লাগাতার অভিযানে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ ও র‍্যাব-৬। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের রেশ ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় টানা চিরুনি অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত মোট আটজন প্রধান ও সহযোগী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা নগরজুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক তথ্যে উঠে আসে, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় লবণচরার হরিণটানা বালুর মাঠে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মঞ্জুরুল নামের এক যুবককে। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আশিবিঘা এলাকা থেকে নাজমুল নামের আরেক যুবকের রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে প্রকাশ পায়, প্রথম হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ ও পাল্টা হামলা চালাতেই দ্বিতীয় এই রক্তের খেলায় মেতে ওঠে অপরাধী চক্রটি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পরপরই পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর অপরাধীদের ধরতে মাঠে নামে কেএমপির লবণচরা থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৬। বিশেষ আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি দক্ষিণপাড়া এলাকায় ঝটিকা হানা দিয়ে মঞ্জুরুল হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফারুক ও মাসুদুল ইসলাম কদরকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে খুলনা নগরীর টুটুপাড়া, দক্ষিণ মোল্লাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একে একে গ্রেপ্তার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি, তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাগর আহম্মেদ, মোঃ হাসিব খান, পিলু ওরফে রানা এবং সর্বশেষ গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুল আউয়ালকে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে  আলামিন হাসান সাইফির নামে বিভিন্ন থানায় চারটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলাসহ মোট আটটি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিরাও খুন, ডাকাতি, দস্যুতা ও মাদকের একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা মেনে নেয়। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের সাথে যুক্ত বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *