নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
যৌতুকের লোভের আগুনে পুড়ল এক মায়ের বুক, নির্মম হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ এক দশক পর ন্যায়বিচার পেল সাতক্ষীরার এক পরিবার। যৌতুকের দাবিতে নিজের স্ত্রী ও নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে ঠান্ডা মাথায় নৃশংসভাবে হত্যার অপরাধে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রউফ সরদার নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরের পর ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ ও বিচারিক সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রউফ সরদার তার নিজ বাড়িতে যৌতুকের পারিবারিক দাবির বশবর্তী হয়ে স্ত্রী সাবিনা খাতুন ও তাদের নিরপরাধ শিশু কন্যা আয়েশা সিদ্দিকীকে অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে। ওই বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের পর নিহত গৃহবধূ সাবিনা খাতুনের মা জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে জামাতা আব্দুর রউফ সরদারকে একমাত্র আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে মামলার একমাত্র অভিযুক্ত আসামি আব্দুর রউফ সরদার বিজ্ঞ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় একটি লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করেছিলেন। এই হত্যা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার সময় বিজ্ঞ বিচারিক হাকিমসহ মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার যাবতীয় দালিলিক নথিপত্র এবং নিবিড় পর্যালোচনা শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করেন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
বিজ্ঞাপন
