স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের বেজপাড়া কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসা থেকে আনুমানিক সাড় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরির মামলায় ফিরোজ আলম (৪১) নামের এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চুরি হওয়া অলংকার উদ্ধার ও অপরাপর আসামিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে তাঁকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত পৌনে ১০টার দিকে বেজপাড়া কবরস্থান রোডের তালতলা বাজারসংলগ্ন ‘ফিরোজ জুয়েলার্স’ নামের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ আলম ওই এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদী মো. তারিকুল ইসলাম একটি বেসরকারি ব্যাংকের যশোর শাখায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে বেজপাড়া তালতলা বাজারসংলগ্ন কবরস্থান রোডের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকেন। গত ২১ অক্টোবর পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। পরদিন ২২ অক্টোবর সকালে বাসায় ফিরে এসে দেখতে পান ঘরের প্রবেশদ্বার, কাঠের আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভাঙা এবং ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসা থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা, আনুমানিক ১০ ভরি ওজনের ১০টি সোনার আংটি, একটি গলার চেইন, দুই জোড়া কানের দুল ও কিছু জরুরি কাগজপত্র চুরি হয়ে গেছে। চুরি যাওয়া ওই সকল স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।
আদালতে পেশ করা পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে ২২ অক্টোবর রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় চোরকে বাসায় প্রবেশ করে চুরিকাজ সম্পন্ন করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফিরোজ আলমকে অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ আলম ঘটনার সাথে নিজের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনায় জড়িত চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করার স্বার্থে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া জামিনে মুক্তি পেলে আসামি আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে পারেন বলে চুরির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।
