স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক কয়েকটি হামলার ঘটনায় এক নারীসহ মোট ছয়জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার উত্তর ললিতাদহে পূজা চলাকালীন কথা-কাটাকাটির জেরে চারজন এবং হামিদপুর নূরীতলা এলাকায় যাতায়াতের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এছাড়া মণিরামপুরে জমি ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে অপর এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে নয়টার দিকে যশোর সদর উপজেলার উত্তর ললিতাদহ এলাকায় পূজা উদযাপনের সময় আকস্মিক কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত ঘটে। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বিরোধের সূত্র ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন ডিটুল (৩৭), সজীব (২৫), শিমুল শিকদার (৩২) ও স্বপন শিকদার (৫২)। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এই হামলায় মিন্নয় সিকদার, তন্ময়, শান্ত সিকদার ও অন্তু সিকদারসহ আরও কতিপয় ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন।
এদিকে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে যশোর শহরের হামিদপুর নূরীতলা এলাকায় গাড়ি চলাচলের পথ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে এক নারীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গাড়ি চলাচলের সুবিধাজনক পথ নিয়ে বিরোধের জেরে বেবী (৪৫) নামের এক নারীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। আহত বেবী ওই এলাকার বাসিন্দা মিজানুরের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রতিবেশী আইয়ুব নিজ বাড়ির সামনে রাস্তা খুঁড়ে গর্ত করে রাখায় ওই পথ দিয়ে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছিল। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী প্রতিবাদ জানালে আইয়ুব ও তাঁর পরিবারের লোকজন চড়াও হয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কোদাল দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়, যার ফলে তাঁর মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
অপরদিকে, একই দিনে (২৪ অক্টোবর) দুপুরে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আরও একটি সহিংস ঘটনা ঘটে। জমিতে পূর্বে রোপণকৃত কয়েকটি পেয়ারা গাছ কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তর্কের জেরে আতিয়ার গাজী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নিজের ভাই খয়বার গাজী এবং তাঁর দুই ভাতিজা এই হামলার সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা আহত আতিয়ার গাজীকে উদ্ধার করে দ্রুত মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন।। ছবি সংগৃহীত।
